বীরভূমের ঐতিহ্যবাহী পাথরচাপড়ি দাতাবাবার মাজারে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প। পানীয় জল, গেস্ট হাউস, চিকিৎসালয়, পার্ক ও রাস্তার উন্নয়নের উদ্যোগ।

 

বীরভূম: জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও পর্যটনস্থল পাথরচাপড়ি দাতাবাবার মাজার শরীফের সার্বিক উন্নয়নে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাজারের সংস্কার, সৌন্দর্যায়ন এবং পুণ্যার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের উদ্যোগে পাথরচাপড়ি মাজার ও সংলগ্ন এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ওয়াকফ বোর্ডের সিইও মোদাসসার মোল্লার বক্তব্য অনুযায়ী, মাজারে আগত মানুষের সুবিধার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কী কী উন্নয়ন হবে?

প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে পানীয় জলের ব্যবস্থা, গেস্ট হাউসের আধুনিকীকরণ, দাতব্য চিকিৎসালয়ের উন্নয়ন, পার্ক ও পুকুর সংস্কার এবং মাজার চত্বরের সৌন্দর্যায়ন।

পুণ্যার্থীদের রোদ ও বৃষ্টির হাত থেকে সুরক্ষা দিতে মাজার চত্বরের চাতালে আধুনিক ধরনের ছাউনি বা ছাতা বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ আরও সুন্দর করতে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

রাস্তা ও দখলমুক্ত করার উদ্যোগ

পাথরচাপড়ি মাজার সংলগ্ন এলাকার রাস্তা ও জমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ওয়াকফ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মাজার সংলগ্ন প্রায় ২৭৬টি দোকান চিহ্নিত করা হয়েছে। রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য কিছু দোকানকে পিছিয়ে দেওয়া এবং বেআইনি দখল সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এর ফলে মাজার সংলগ্ন এলাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা ও সামগ্রিক পরিবেশ আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

ফের চালু হতে পারে ঐতিহাসিক দাতব্য চিকিৎসালয়

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাথরচাপড়ি মাজারের ঐতিহাসিক দাতব্য চিকিৎসালয় পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ অথবা ১১–১২ তারিখের কাছাকাছি এটি চালু হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।

লঙ্গরখানায় প্রতিদিন খাবার পরিবেশন

পাথরচাপড়ি দাতাবাবার মাজারের লঙ্গরখানার কার্যক্রমও চালু রয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিদিন দু’বেলা অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। উৎসবের মরশুমে মাজার সংলগ্ন এলাকার কয়েকশো দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী পাথরচাপড়ির নতুন রূপ

সংস্কার, সৌন্দর্যায়ন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পাথরচাপড়ি মাজার এবং সংলগ্ন এলাকার চেহারায় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের জন্য আরও উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

Mybirbhum


Post a Comment

Please write your Opinion

Previous Post Next Post