বীরভূম জেলার সদর শহর সিউড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন
শহরের সৌন্দর্যায়ন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই এই ধরনের আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ পরিকাঠামো তৈরির উদ্যোগ বলে জানা যাচ্ছে। সিউড়ির পাশাপাশি রাজ্যের আরও কয়েকটি শহরকে এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে রাখা হয়েছে।
সিউড়িতে কেন মাটির নিচে যাবে বিদ্যুতের লাইন?
বর্তমানে সিউড়ি শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি এবং তারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। শহর বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। একই সঙ্গে রাস্তার উপর দিয়ে থাকা একাধিক তারের কারণে অনেক জায়গায় তৈরি হয় তারের জট।
ঝড়-বৃষ্টি বা প্রবল হাওয়ার সময় ওভারহেড বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। কোথাও গাছের ডাল ভেঙে তারের উপর পড়া, কোথাও তার ছিঁড়ে যাওয়া—এই ধরনের সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে।
আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল ব্যবস্থা চালু হলে এই ধরনের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রথম পর্যায়ে কোন কোন শহর?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ছয়টি শহরকে প্রথম পর্যায়ের এই উদ্যোগে রাখা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে—
- সিউড়ি
- কাঁথি
- এগরা
- জলপাইগুড়ি
- বালুরঘাট
- আলিপুরদুয়ার
এই শহরগুলিতে বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট এলাকায় বিদ্যুতের ওভারহেড লাইন সরিয়ে মাটির নিচ দিয়ে কেবল বসানো হবে।
সিউড়ির মানুষের কী সুবিধা হবে?
সিউড়িতে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একাধিক ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, রাস্তার উপর থাকা বিদ্যুতের তারের সংখ্যা কমলে শহরের দৃশ্যপট আরও পরিষ্কার হবে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা বাড়বে।
বিশেষ করে বর্ষাকাল ও ঝড়ের সময়ে বিদ্যুৎ লাইনের উপর গাছ বা অন্য কোনও বস্তু পড়ে পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে শহরের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রেও আধুনিক পরিকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তবে প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার আগে কোথায় কোথায় কেবল বসানো হবে, কতটা এলাকা এই প্রকল্পের আওতায় আসবে এবং কাজ শেষ করার সময়সীমা কী—এই বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে জানা প্রয়োজন।
শুধু সৌন্দর্যায়ন নয়, নিরাপত্তাতেও গুরুত্ব
সিউড়িতে মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন বসানোর উদ্যোগকে শুধুমাত্র শহরের সৌন্দর্যায়নের প্রকল্প হিসেবে দেখলে বিষয়টি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আধুনিক শহরের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী নেটওয়ার্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শহরের জনসংখ্যা ও বিদ্যুতের ব্যবহার যত বাড়বে, ততই উন্নত পরিকাঠামোর প্রয়োজন হবে। সেই জায়গা থেকেই সিউড়িতে আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ কেবল প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিউড়ি কি এবার বদলে যাবে?
মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সিউড়ির বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় আধুনিকতার ছোঁয়া আসবে। রাস্তার উপর তারের জট কমবে, বিদ্যুৎ পরিকাঠামো আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং ভবিষ্যতে শহরের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এখন সিউড়ির বাসিন্দাদের নজর থাকবে কবে থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং শহরের কোন কোন এলাকায় প্রথমে আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ লাইন বসানো হয়, সেই দিকে।