নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ: শনিবার রাত। দিনের ব্যস্ততা শেষ করে অনেকেই তখন বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় আচমকাই অনুভূত হয় মাটির কম্পন। ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ২৪ মিনিট নাগাদ মুর্শিদাবাদে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর সামনে আসতেই বিভিন্ন মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। National Center for Seismology (NCS)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩.৭ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল মুর্শিদাবাদ এলাকায়।
NCS-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১০টা ২৪ মিনিট ৪ সেকেন্ডে ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। তুলনামূলকভাবে কম মাত্রার এই ভূমিকম্প হলেও রাতের সময় আচমকা কম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয়।
মুর্শিদাবাদেই ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল
ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে এর মাত্রার পাশাপাশি কেন্দ্রস্থল এবং ভূমিকম্পের গভীরতাও গুরুত্বপূর্ণ। NCS-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল মুর্শিদাবাদে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূকম্পনটির উৎপত্তি হয়েছে বলে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের মাত্রা ৩.৭ হওয়ায় এটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর্যায়ে পড়ে না। তবে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি এলাকায় কম্পনের অনুভূতি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। বিশেষ করে রাতের নীরব পরিবেশে কয়েক সেকেন্ডের কম্পনও মানুষের কাছে যথেষ্ট জোরালো বলে মনে হতে পারে।
বীরভূমেও আতঙ্কের ছায়া
মুর্শিদাবাদে ভূমিকম্পের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির বাসিন্দাদের মধ্যেও কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি হয়। বীরভূমের বিভিন্ন এলাকার মানুষও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।
তবে কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় কতটা কম্পন অনুভূত হয়েছে, সে বিষয়ে স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য এবং সরকারি ভূকম্পন সংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই কোনও ঘটনা নিয়ে নিশ্চিত তথ্যের জন্য সরকারি সংস্থার প্রকাশিত তথ্যকেই অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
ভূমিকম্পের পর কী করবেন?
ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের ভিতরে থাকলে জানালা, কাচ, ভারী আলমারি বা এমন কোনও জিনিসের কাছাকাছি না থাকাই নিরাপদ। সম্ভব হলে মজবুত টেবিল বা আসবাবের নিচে আশ্রয় নিয়ে মাথা ও ঘাড় ঢেকে রাখা যেতে পারে।
কম্পন চলাকালীন লিফট ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাইরে থাকলে ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছ বা অন্য কোনও ভারী কাঠামো থেকে দূরে সরে খোলা জায়গায় থাকা তুলনামূলক নিরাপদ।
ভূমিকম্প থেমে যাওয়ার পরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কোনও ভবনে ফাটল দেখা দিলে বা কাঠামোগত ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে সেখানে প্রবেশ না করাই ভালো। বিদ্যুৎ বা গ্যাসের লাইনে কোনও সমস্যা হয়েছে কি না, সেটিও নজরে রাখা দরকার।
আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই জরুরি
৩.৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও ভূমিকম্পের ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে মানুষের সচেতন থাকা কতটা জরুরি। ভূমিকম্প কখন ঘটবে তা নির্ভুলভাবে আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমিকম্পের সময় করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। নতুন কোনও কম্পন বা পরবর্তী কোনও তথ্য সামনে এলে তা সরকারি সূত্রের মাধ্যমে জানা যাবে।
মুর্শিদাবাদে শনিবার রাতের এই ভূমিকম্প নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রাতের সময় আচমকা মাটি কেঁপে ওঠায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে ভূমিকম্পের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলা এবং সতর্ক থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ভূমিকম্পের তথ্য এক নজরে:
তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সময় রাত ১০:২৪:০৪ মিনিট
মাত্রা ৩.৭ কেন্দ্রস্থল মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ
গভীরতা ১০ কিলোমিটারতথ্যসূত্র National Center for Seismology (N
CS)
MyBirbhum-এর পাঠকদের উদ্দেশ্যে: আপনার এলাকায় এই ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়ে থাকলে কোথায় এবং কীভাবে অনুভূত হয়েছে, তা আমাদের জানাতে পারেন। স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা এই ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।